Baluchari MeghnaMiscellaneous 

দর্শনে বৈচিত্র্য রেখে পুজোর বাজারে ‘বালুচরি মেখলা’

কাজকেরিয়ার অনলাইন নিউজ ডেস্ক : পরিস্থিতি ভিন্ন। তবুও এবার পুজোয় বাজারে বালুচরি মেখলা। আবার একই শাড়িতে পুজোর ৩ দিন। অবাক করার মতোই ব্যাপার। এটি সম্ভব করে তুলেছেন বিষ্ণুপুরের বালুচরি শিল্পী অমিতাভ পাল। স্থানীয় সূত্রের খবর, একই শাড়ির মধ্যেই রয়েছে সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীর সাজ। আবার দর্শনেও বৈচিত্র্য রয়েছে। কীভাবে এটি সম্ভব হয়েছে কৃষ্ণগঞ্জে শিল্পীর বাড়িতে গেলেই তা বোঝা যাবে। সূত্রের আরও খবর, ১২ হাতের শাড়িকে দু-টুকরো করে ফেলা হয়েছে। যার একটি অংশ উত্তরীয়, অপর অংশটি ঘেরা। দুটি পার্টেই বিভিন্ন নকশা আঁকা। দুটিতেই রয়েছে আঁচল আর পাড়। জানা গিয়েছে, দুই অংশকে ল্যাহেঙ্গার মতো করে পরা যাবে। আবার শাড়ি হিসেবেও তা পড়া যাবে।

এক্ষেত্রে আরও জানা যায়, উত্তরীয় ও ঘের, দুই অংশই জায়গা বদল করতে পারবে। যে-কোনও অংশকে নিচে এবং যে-কোনও অংশকে উপরে পরা যাবে। শিল্পী অমিতাভ পাল এ বিষয়ে জানিয়েছেন, খণ্ডিত অবস্থায় দেখলে দুটি কাটা পিস বলে মনে হবে। গায়ে জড়ালেই নারী হয়ে উঠবে অপরূপা। অসমে মহিলাদের কাছে মেখলা ব্যাপক জনপ্রিয়। তারই আদলে তৈরি হওয়ায় নাম দেওয়া হয়েছে ‘বালুচরি মেখলা’। দাম ৭ থেকে ১২ হাজার টাকার মতো। ওই শিল্পী আরও জানান, গত ২ বছর ধরে ১ লক্ষ ও ১.৫০ লক্ষ টাকা দামের বালুচরি তৈরি করেছি।

এবারে করোনার আবহে মানুষের হাতে টাকা নেই। তাছাড়া পুজোর উৎসাহেও কিছুটা ভাটা পড়েছে। সব মিলিয়ে এবার মানুষের হাতে টাকা কম। সেকথা চিন্তা করেই কম দামের মধ্যে অভিনব কিছু করার পরিকল্পনা করেছিলাম। তা বাস্তবায়িত করতে পেরেছি। তাঁর আরও বক্তব্য, ছকে বাঁধা ১২ হাতের শাড়িকে দ্বি-খণ্ডিত করে দিয়েছি অসমিয়া মেখলার আদল। শাড়ি হিসেবেও পরা যাবে, তেমনই পরা যাবে ল্যাহেঙ্গার স্টাইলে। বালুচরি মেখলা শাড়ির খণ্ডিত দুই অংশে রয়েছে ৪টি রং। ঘিয়ে, সাদা, কালো ও রানি। আঁচল ও পাড়ে রয়েছে হাতি, ফুল ও রথের অপূর্ব সব নকশা।

Related posts

Leave a Comment